একসময় দিন এনে দিন খাওয়া সিএনজি চালক, অথচ আজ তার চলাফেরা রাজার হালে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাবিলাখাই গ্রামের এই রূপকথার গল্পের পেছনের সত্যতা উন্মোচিত হতেই আঁতকে উঠেছেন এলাকবাসী।
কোনো সৎ ব্যবসা বা অলৌকিক কিছু নয়, অনলাইনের মরণনেশা ‘জুয়া’র এজেন্টশিপ চালিয়ে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আছাব উদ্দীনের ছেলে কাইয়ুম এবং তার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের মূল পেশা সিএনজি চালনা হলেও এটি ছিল মূলত একটি ‘কভার আপ’ বা আড়াল। সিএনজি চালানোর নাম করে তিনি ঘুরে বেড়াতেন গ্রাম থেকে গ্রামে, আর সুযোগ পেলেই ছড়িয়ে দিতেন অনলাইন জুয়ার জাল।
স্মার্টফোনের একটি অ্যাপস আর সহজ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে কাবু করতেন গ্রামের উঠতি বয়সের যুবকদের। পরবর্তীতে এই কারবারে যোগ দেন তার স্ত্রীও।
স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে গড়ে তোলেন অনলাইন জুয়ার একটি শক্তিশালী এজেন্ট নেটওয়ার্ক।
কাইয়ুমের এই রঙিন প্রলোভনে পা দিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার শত শত যুবক আজ ধ্বংসের মুখে। রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্নে জমি-জমা বিক্রি করে, গোয়ালঘর খালি করে, এমন কি সুদে টাকা এনেও যুবকরা ঢালছে এই অনলাইন জুয়ায়।
জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক যুবক জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে। ঘরে ঘরে চলছে অশান্তির দাবানল।
এলাকাবাসীর দাবি, কাইয়ুমের এমন রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এবং বিলাসী জীবনযাপন দেখে এতদিন অনেকে তাজ্জব বনে গেলেও এখন থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ— কাইয়ুম ও তার স্ত্রীর তৈরি এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে বহু পরিবার আজ পথে বসেছে।
অভিযুক্ত কাইয়ুমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এই অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।
এব্যাপার শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন ‘জোয়ারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সব সময় অব্যাহত নাম টিকানা পাঠিয়ে দেন। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।