বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

আখাউড়ায় রেলসেতুতে ৪ মাজার ভক্তের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু

অনলাইন ডেক্স
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলসেতু পারাপারের সময় ট্রেন দেখে লাফিয়ে পড়ে ও ট্রেনে কাটা পড়ে চারজন মারা যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার দু’দিন পর শনিবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।

একাধিক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় বেশ কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। ওরশ উপলক্ষে মাজারের আশপাশের নির্ধারিত এলাকায় ট্রেনের গতি ১০ কিলোমিটার নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি মানা হয়েছে কিনা কিংবা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কিনা সেটির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

নির্ধারিত রেললাইন পাহারায় ৫০ জনের বেশি পুলিশ থাকলেও তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সে বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা। তদন্ত কমিটি একাধিক বিষয় মাথায় রেখেই তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। 

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তারেক শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ওরশ চলাকালীন উল্লেখিত জায়গায় ৯ আগস্ট থেকে ট্রেনের গতি ১০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়।

তবে ঘটনার সময় ট্রেনটি কতটুকু গতিতে চলছিল সেটি তদন্ত  করলে বেরিয়ে আসবে।’

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আখাউড়ার খড়মপুর এলাকায় অবস্থিত শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.)-এর মাজারের পশ্চিম পাশে রেললাইন ধরে চলার সময় দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন। এর মধ্যে ট্রেন আসতে দেখে লাফিয়ে পড়ে তিনজন ও ট্রেনে কাটা পড়ে একজন মারা যান। এ ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ওরশ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫০০-এর মতো সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়। দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের মতো রেললাইন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন ৫০ জনের মতো রেলওয়ে পুলিশ।
মাজার ভক্তরা এজন্য ওরশ পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। নতুন রেললাইন স্থাপনের পর গত কয়েক বছর ধরে একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও শুরু থেকে পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনা করেছেন অনেকে।

এদিকে, রেললাইন দিয়ে লোকজন চলাচল ছাড়াও সরেজমিনে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে।

মাজার কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মূলত বাণিজ্যকে প্রাধান্য দেওয়ায় আগতদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য দিকে নজরই দিচ্ছেন না। এ নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে ওই সেতুর দু’পাশে বাঁশ দিয়ে আটকে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া রেললাইন ধরে চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। তবে নৌপথে অনেকে এসে রেললাইনের পাশে নৌকাসহ অবস্থান করছেন বলে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গত দু’দিনের তুলনায় শনিবার ভক্তদের সংখ্যা ছিল কম। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাজার উপলক্ষে বসা মেলার দোকানগুলোর কারণে হাঁটাচলাও দায়। মাজারে প্রবেশের মূল সড়কটি তেমন চওড়া না হওয়া ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মাজারের ঠিক দক্ষিণ দিকে ঘাটলা থাকলেও সেখানে নৌকার সংকুলান হয় না। যে কারণে আখাউড়া থেকে বাইপাস হয়ে সিলেটে যে রেলপথ গেছে সেটির পাশে তিতাস নদীতে নৌকা রাখতে হয়। সেখান থেকে রেললাইন ধরে লোকজনকে মাজারে আসতে দেখা যায়। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক সমাগম হলেও পানীয় জল ও টয়লেটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেশ কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে আখাউড়া খড়মপুর মাজার শরীফে বার্ষিক ওরশ শুরু হয়েছে। ১৪ আগস্ট আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশ  শেষ হবে। ওরশে লাখো লোকের সমাগম হয়। ওরশ উপলক্ষে মাজার ও এর আশপাশে মেলা বসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451