চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত দিদারুল আলম ওরফে টেডি দিদারকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
০৫ মার্চ(বৃহস্পতিবার) রাত ১২টার দিকে নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকার আনসার ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত দিদারুল আলম পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার জানান, খুলশী আনসার ক্লাবের সামনে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি পাহাড়তলী এলাকার হলেও ঘটনাটি খুলশী থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে খুলশী থানা বিস্তারিত জানাতে পারবে।
খুলশী থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সরাইপাড়ার বাসা থেকে কয়েকজন যুবক টেডি দিদারকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাজারের সামনে তাকে মারধর করতে করতে আমবাগান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেডি দিদার অতীতে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে গণপিটুনিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপশিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল হত্যাকাণ্ড এবং ২০২২ সালে মো. ফরিদ নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে।
রেলের জায়গা দখল, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দেওয়া টেডি দিদার এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বের হয়ে পুনরায় দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।