বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধন: আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবের পথে নতুন অগ্রযাত্রা  বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আশুলিয়ার বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক শফিক সাগর: সংগ্রাম থেকে সাফল্যের গল্প পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ আশুলিয়ায় গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠছে কারবারিরা লাখ লাখ টাকার মালিক আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং ও মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই ডাকাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যসহ ৫জন গ্রেফতার ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় “জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের” শুভ উদ্বোধন

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় প্রতিবন্ধী রেজাউলের স্কুলে যেতে ক্রাচই এক মাত্র ভরসা

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ-এক পা দিয়ে ক্রাচে ভর করে টুক টুক করে হেঁেট আসতে দেখা যায় ছোট্ট বালকটিকে। তাঁর পড়নের জামা প্যান্ট ও কাঁেধ স্কুল ব্যাগ দেখে খুব সহজেই বুঝা যায় সে কোন না কোন বিদ্যালয়ের ছাত্র। পথে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে আমি এখন সময় দিতে পারবো না আমার স্কুলের সময় হয়ে যা”েছ। তখন তাঁকে মটরসাইকেলের পিছনে বসিয়ে বিদ্যালয়ে এগিয়ে দিতে দিতে জানাগেল তাঁর জীবনের কিছু কথা। সে ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আনইলবুনিয়া গ্রামের মোঃ আবু ছালেহ মোল্লার পুত্র মোঃ রেজাউল মোল্লা। তাঁরা দুই ভাই। রেজাউলই সংসারের বড়। জন্মগত ভাবে এক পা হারানো বিকালঙ্গ একজন প্রতিবন্ধী। বাবা গাছের ব্যবসা করে কোন মতে সংসার পরিচালনা করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বাড়ির নিকটে হওয়ায় মা ছোট বেলায় কোলে করে বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতেন এবং ক্লাশ শেষে বাড়ি নিয়ে যেতেন। যখন একটু বড় হলেন তখন বাবা দুটি ক্রাচ বানিয়ে দেন। ক্রাচে ভর করে ৪র্থ ও ২০১৩ সনের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে ৫ম শ্রেণিতে সন্তোনজনক ফলাফল করে কাঠালিয়া পাইলট মডেল উ”চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কাঠালিয়া পাইলট মডেল উ”চ বিদ্যালয়টি রেজাউলের বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে অব¯ি’ত। কিভাবে স্কুলে যাতায়াত করে জানাতে চাইলে রেজাউল জানায়, বাড়ির সামনে দিয়েই বড় পাকা রাস্তা। রাস্তায় বাস চলাচল না করলেও কিছুক্ষণ পর পর অটো গাড়ী চলাচল করে। আমি বিদ্যালয়ে আসার জন্য দাড়িয়ে হাত নাড়ালেও কোন গাড়ী আমাকে নেয় না। কারণ গাড়ীওয়ালারা জানেন যে, আমার বাবা গরীব মানুষ আমাকে ভাড়া টাকা দিতে পারে না। তাই কষ্ট করে প্রতিদিনই ক্রাচে ভর করে বিদ্যালয় যাই। বিদ্যালয়ে যেতে ক্রাচই আমার গাড়ী ক্রাচই আমার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন বিদ্যালয়টি চারটার সময় ছুটি হলে একই ভাবে ক্রাচে ভরে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। যাওয়া আসা করতে প্রায় ৪ চার ঘন্টা লেগে যায়। তাই বাড়িতে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। দুপুরে খুব ক্ষিদে পায় কিন্তু টাকার অভাবে রীতিমত নাস্তাও করা হয় না। তাঁর পরেও মনে মনে আনন্দ পাই যে আমি সবার সাথে পড়ালেখা করি। রেজাউল এবার ২০১৬ সনের জে.এস.সি পরীক্ষার্থী। তাঁর স্বপ্ন পড়ালেখা শেষ করে মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। সংসারে বোঝা হয়ে বেচেঁ থাকতে চায় না। তবে ভয় হয় যে কোন সময় আর্থিক কারণে যদি লেখাপড়া বন্ধন হয় যায়। মেধাবী রেজাউল সমাজের বিত্তবানদের একটু সুনজর ও সবার কাছে দোয়া চান।
 


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451