শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

বিএনপি নেই, তাহলে আ.লীগের মুখে সারা দিন বিএনপি-বিএনপি কেন? -মির্জা ফখরুল।

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রত্যেক দিন একটি ঘরের মধ্যে সুন্দর আসনে বসে চমৎকার কথা বলেন। তিনি ছাত্রজীবনে নাটক করতেন এবং সুন্দর করেই বলেন। তাঁর বলার প্রতিপাদ্য একটাই- বিএনপির এই নেই, ওই নেই। উনারা তো বলেন বিএনপি নেই, তাহলে তাদের মুখে সারা দিন বিএনপি-বিএনপি কেন? আপনারাই বলেন, বিএনপি সংকটে পড়েছে, নেতৃত্বের অভাব। তাহলে আপনাদের কথা বলার মূল বিষয়বস্তু বিএনপি কেন? কারণ আপনারা জানেন, বিএনপিই হচ্ছে একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারে।’

দেশে আজকের যে সংকট, সেই সংকট আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে- এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘তারা মানুষের ভোটের অধিকারটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। প্রতিটা পণ্যের দাম চারগুণ, পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। লুটপাটের জন্য তারা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে এবং সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনগণের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের স্মরণে আয়োজিত এক সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘তাই এ থেকে মুক্তিলাভের জন্য আমাদের যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত আছে, সেটাকে তীব্র থেকে তীব্রতর রূপে নিয়ে গিয়ে এই দানব আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তাহলেই তরিকুল ইসলাম সাহেবের আত্মার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালে যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, আমাদের দুর্ভাগ্য সেই স্বপ্ন বাংলাদেশে এখনো পূরণ হয়নি। আমাদের মূল যে চেতনা ছিল, গণতান্ত্রিক চেতনা, তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।’

এ সময় সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আপনারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় আটক করে রেখেছেন। কারণ আপনারা জানেন, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে নির্বাচনের আগে আপনারা যেটা করেছেন, সেটা করতে পারতেন না এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হতো তাতে আপনারা টিকে থাকতে পারতেন না।’

‘এই সরকার আজকে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, প্রায় এক লাখ মামলা। আমাদের নেতাকর্মীদের গুম করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। তারপরও বিএনপি থেকে একটি লোককেও কেড়ে নিতে পারেনি। এই যে বিএনপির এই জায়গায় আসা; এটার পেছনে তরিকুল ইসলাম সাহেবের অবদান অকল্পনীয়’, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মসিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451