বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৪ অপরাহ্ন

অপরাধীদের বাঁচাতে সহযোগিতা না করতে সংসদ সদস্যর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

অপরাধের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে এসব অপরাধীদের বাঁচাতে সংসদ সদস্যরা যেন সহযোগিতা করতে না যান, সে বিষয়ে নির্দেশও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তৃতাকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। এ সময় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমপিদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা না করেন। অপরাধ যে করে ও অপরাধীকে যারা রক্ষা করে তারা সমানভাবে দোষী।

শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে ইউএনও’র ওপর যে ঘটনা ঘটে গেছে, সেটি তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার আসল রহস্যটা আসলে কি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তারা চুরি করার জন্য সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু আসলে সেখানে আরো কি কি ঘটনা থাকতে পারে সেগুলো এখন যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইউএনওকে হেলিকপ্টারে করে সাথে সাথে নিয়ে এসে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থাই কিন্তু আমরা গ্রহণ করেছি।

সংসদ নেতা বলেন, আমি আগেই বলেছি অপরাধী কিন্তু আমার চোখে অপরাধী। সে কোন দল, কে, কি আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়বো না।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাড়ির ভেতরে ঢুকে এভাবে আক্রমণ করা বা হাতুরি দিয়ে পিটানো অত্যন্ত গর্হিত কাজ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কথা তো বাস্তব যে বেডরুমে তো কেউ পাহারা দিতে পারে না। তারপরও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং দেশে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সবসময় সজাগ রয়েছি। এভাবে একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর কেনো হামলা হলো সেটি দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনা যে কোনো সময় ঘটতে পারে কিন্তু সেই ঘটনার সাথে সরকারের পক্ষ থেকে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি কি না, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। সেখানে আমরা যখনই যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক তার সঙ্গে যারা জড়িত যার নাম আসবে সে কে কি করে আমি সেটা দেখতে চাই না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশে এই ঘটনা নতুন ঘটেছে না। ৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘরে ঢুকেই গোটা পরিবারকেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি তো রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তারপরও এমন নির্মম ঘটনা ঘটেছিল। সেই খুনিদের ইনডেমনিটি দিয়ে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এই ধরনর খুনি ক্রিমিনালদের যখন প্রশ্রয় দেওয়া হয়, মানসিকভাবে সেই দেশের মানুষের কি রকম চরিত্র হতে পারে সেটাও হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। তিনি আরো বলেন, যে দেশে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়, দূতাবাসে চাকরি দিয়ে যে দেশে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, সেই দেশটাকে শৃঙ্খলায় ফিরে আনা বা নিয়ম মাফিক চালানো খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটাতো আমরা সরকারে আসার পর পালন করে যাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার প্রশ্নের জবাবে করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা, পিসিআরসহ ১০টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ৫টি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও ৪টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোলজিক্যাল পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ, ৮০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব কার্যকর, ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার এবং অতিরিক্ত ১০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট-আইসিইউসহ মোট ১৭০ শয্যা চালু করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপন করা হবে।

একই প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পিসিআরসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষাগার স্থাপন, সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৮টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ও তিনটি সমুদ্রবন্দরে ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন, ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৬৪টি জেলা হাসপাতাল ও ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হ্যান্ড ওয়াশ কর্নার স্থাপন, ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইনফেকশাস ডিজিজেজ ডিপার্টমেন্ট স্থাপন এবং সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোয় ইনফেকশাস প্রিভেনশন কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপন করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ে আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী প্রত্যেকে আমাদের প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, ভিডিপি, পুলিশ বাহিনী এবং আমাদের দলের নেতা-কর্মী আমাদের ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করেছে। এই কাজ করতে গিয়ে বহু নেতা-কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছে, অনেকেই মারা গেছে। তিনি আরো বলেন, একটার পর একটা ধাক্কা আসছে। করোনার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এলো। আম্ফানে ২৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। এই ঝড়ের ধাক্কা না কাটতেই আসলো বন্যা। সেই বন্যা মোকাবেলা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের সাহায্য করা হয়েছে। এটি সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে করেছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করি। আমরা ছোটবেলা থেকে সেভাবেই শিক্ষা নিয়েছি। আমার বাবার নির্দেশ ছিল রিকশাওয়ালাকে আপনি করে কথা বলতে হবে। ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। আর কাজের লোকজন তাদের কখনো চাকর-বাকর বলা যাবে না। হুকুম দেওয়া যাবে না। তাদের সাথে সম্মান করে, ভদ্রভাবে কথা বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও যতদূর পারি নিজের কাজ নিজে করি। এটা আমার বাবারই শিক্ষা, তিনি শুধু বলে গেছেন তা না সেই শিক্ষা আমাদের দিয়েও গেছেন। গরীব দেখলে, ভালো পোশাক না পরলে, তাকে অবহেলা করতে হবে, আমাদের কাছে সেটা না। আমাদের কাছে সকলে সমান।

প্রধানমন্ত্রী সকালে উঠে আগে কি খুঁজেন এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকলে উঠেই আগে নামাজ পড়ি। নামাজ পড়ার পরে কোরআন তেলওয়াত করি। তারপরে এক কাপ চা নিজে বানাই। আমার সকালের চা’টা নিজে বানিয়ে খাই। চা -কফি যা খাই, তা নিজে বানিয়ে খাই। আমার ছোট বোন থাকলে, আমার ছোট বোন আর আমি, যে আগে ওঠে সে বানায়। এখন পুতুল আছে আমার মেয়ে আছে, যে ঘুম থেকে আগে ওঠে সেই বানায়। আমরা নিজেরাই করে খাই। তার আগে বিছানা থেকে নামার সাথে সাথে নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রাখি নিজের হাতে। এরপর বই পড়ি। তবে আর একটা কাজ করি এখন, গণভবনে একটা লেক আছে। সেখানে যখন হাঁটতে যাই, হেঁটে যখন লেকের পাশে বসি তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছও ধরি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451