সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

বিশেষ ছাড় পদ্মা ব্যাংককে

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

নিয়ম অনুযায়ী, নগদ অংশ সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট) ও বিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআরের (স্টেটিউটরি লিক্যুইডিটি রেশিও) অর্থ জমা রাখতে পারছে না পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স)। এ জন্য ব্যাংকটিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সুবিধা দিয়েছে। এর বাইরে আরও সুবিধার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা রাখা গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষায় ওই আমানতের ১৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। নগদ অর্থ, বিল-বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ জমা রাখতে পারে ব্যাংকগুলো। দীর্ঘদিন ধরে সিআরআর ও এসএলআরের অর্থ জমা রাখতে না পারায় পদ্মা ব্যাংককে প্রায় ১৪১ কোটি টাকা দণ্ড সুদ ও জরিমানা করা হয়। এখন সেই জরিমানার টাকা জমা দিতে ব্যাংকটিকে ৫ বছর সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এ জন্য ব্যাংকটি ৬ মাস বাড়তি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড পাবে। গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারা অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাংকটিকে এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। এ জন্য সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যাংকটি সমস্যায় আছে। এ জন্য ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার অনুমতি দিলে এসএলআর রাখতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ সুবিধা দেওয়ার ফলে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হবে। কারণ, এসএলআর রাখা হয় আমানতকে সুরক্ষিত করতে। এভাবে সুযোগ দিলে অন্য ব্যাংকগুলোও একই দাবি তুলবে। ব্যাংকটি যেহেতু সমস্যায় আছে, তাই একটু সময় দেওয়া যেতে পারে।

 গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপিত নথিপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সিআরআর সংরক্ষণে ঘাটতি ছিল। আর ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত এসএলআর সংরক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। সিআরআর ঘাটতির জন্য ব্যাংকটিকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু তাও দিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি। ফলে সিআরআর ও এসএলআর ঘাটতির দণ্ড সুদ ও জরিমানা মিলে এখন দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

সরকার অনুমোদন দিলে এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবে ব্যাংকটি

এদিকে ২০১৯ সালের শুরুতে ফারমার্স ব্যাংকের নাম বদলে হয় পদ্মা ব্যাংক। এরপর গত ৪ নভেম্বর দণ্ড সুদ ও জরিমানা মওকুফ চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করে ব্যাংকটি। পাশাপাশি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এসএলআর সংরক্ষণ ও সংরক্ষণের হার প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান খসরু কানাডা থেকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন সিআরআর রাখতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে এসএলআর সংরক্ষণে মাঝেমধ্যে সমস্যা হচ্ছে। তাই আমরা জরিমানা মওকুফ ও এসএলআর থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। এ ছাড় পেলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহ শেষে সিআরআর বাবদ আমানতের সাড়ে ৫ শতাংশ অর্থ নগদ ও এসএলআর বাবদ আমানতের সাড়ে ১৩ শতাংশ অর্থ ও আর্থিক উপকরণ জমা রাখতে হয়।যে পরিমাণ সিআরআর ঘাটতি হয়, তার ওপর ৫ শতাংশ হারে প্রতিদিন জরিমানা গুনতে হয়। আর এসএলআর ঘাটতির ওপর স্পেশাল রেপো (বর্তমানে প্রায় ৯ শতাংশ) পরিমাণ টাকা জরিমানা গুনতে হয়।

এর আগে সরকারি খাতের প্রবাসী কল্যাণ, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও এসএলআর সংরক্ষণ থেকে ছাড় পায়। বর্তমানে পদ্মা ব্যাংকের ৬৮ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার এখন রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরান বিভিন্ন জনাকীর্ণ কারাগারের ৫৪ হাজারের বেশি বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর ওই বন্দীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ব্যাপক হারে জামিন দেওয়া হলেও পাঁচ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ‘নিরাপত্তা বন্দীদের’ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। আর এই গণজামিনের ঘটনায় ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দাতব্যকর্মী নাজানিন জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ খুব শিগগির মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। খবরে টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার পোস্ট তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ আজ-কালের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। নাজানিনের মুক্তি চেয়ে ‘হ্যাশট্যাগ ফ্রি নাজানিন’ লিখে দ্বিতীয় পোস্টে টিউলিপ বলেন, ‘যদি এই সাময়িক মুক্তির ঘটনা ঘটে, তবে ব্রিটিশ সরকারের এটিকে (মুক্তি) স্থায়ী করার দায়িত্ব থেকে যায়। তাঁকে যেন দর-কষাকষির বস্তু হতে না দেওয়া হয়। আমি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে নাজানিন তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য এখনো তাঁকে পরীক্ষা করা হয়নি।’ ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে এদিকে নাজানিনের স্বামী গত শনিবার দাবি করেছেন, তেহরানের ইভিন কারাগারে তাঁর স্ত্রীর কোভিড-১৯ সংস্পর্শ ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি বলেছেন, নাজানিনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন। ২০১৬ সালে নাজানিনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ বছরের জেল দেয় ইরান। তবে নাজানিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ সরকারও নাজানিনকে নির্দোষ দাবি করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীদের ইভিন কারাগারে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের কাছে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯–এ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৩ হাজার ১১০ জন। এর বেশির ভাগই চীনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়ায়। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আফগানিস্তান, কানাডা, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ৭১ বছর বয়সী মীর মোহাম্মদি মারা গেছেন। দেশটির ২৯০ জন এমপির মধ্যে ২৩ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। সবশেষ আক্রান্ত হয়েছেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ।

© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451