শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

নতুন কৌশল নিয়ে প্রচারে নামার পরিকল্পনা করছেন মেয়র প্রার্থীরা।

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। তবে মূল দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে ভোটের লড়াই। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে এবার চার মেয়র প্রার্থীর সামনে নতুন প্রতিপক্ষ। তাই নতুন কৌশল নিয়ে প্রচারে নামার পরিকল্পনা করছেন মেয়র প্রার্থীরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দুই দল থেকেই নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই প্রার্থীই আগে মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। তবে ভোটের মাঠে দুজনেরই প্রতিপক্ষ নতুন।

গতকাল রোববার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগের দিন দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সারা দিন নিজেদের কৌশল নির্ধারণ ও মনোনয়নপত্র দাখিলের দাপ্তরিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা।

ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত সামনে রেখে এগোবেন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী। সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে নামবেন তাঁরা। আর গণতন্ত্রহীনতা, সুশাসনের অভাব গুরুত্ব পাবে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারে। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ধানের শীষের দুই প্রার্থী।

তাপস-ইশরাকের প্রথম মেয়র নির্বাচন

নৌকার প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস গত তিন মেয়াদে ঢাকা-১০ আসনের সাংসদ। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ছেলে তাপস। তাঁর বড় ভাই শেখ ফজলে শামস গত নভেম্বরে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার সময়ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দুই ভাই উপস্থিত ছিলেন। এরপর সেখান থেকে জাতীয় সংসদে গিয়ে পদত্যাগ করেন শেখ ফজলে নূর।

আওয়ামী লীগের প্রচারে গুরুত্ব পাবে সরকারের চলমান উন্নয়ন। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকতে চায় বিএনপি।

মনোনয়ন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের শেখ ফজলে নূর বলেন, ‘উন্নত বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত রাজধানীর প্রয়োজন। সেই উন্নত রাজধানী গড়ার লক্ষ্যে এই সুযোগটা আমি গ্রহণ করব, জনগণের কাছে যাব।’ এর আগে গত শনিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন আইনে অনেক ক্ষমতা দেওয়া আছে। তাই চাইলে অনেক কিছু করা যায়। চাইলে, মনোনিবেশ করলে, আত্মনিয়োগ করলে অবশ্যই সম্ভব। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক অল্প দিনেই তা প্রমাণ করেছিলেন। আনিসুল হকের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। মেয়র হলে তাঁর দেখানো পথেই হাঁটতে চান তিনি। শেখ ফজলে নূর তিন মাসের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা তৈরির ঘোষণাও দিয়েছেন।

শেখ ফজলে নূরের মতো বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনও রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি তিনি। ওই সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তাই এবারই প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে লড়ছেন ইশরাক। গতকাল ইশতেহার তৈরি ও প্রচারকৌশলের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। প্রচারের জন্য একটি ভিডিওর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির বিদেশবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন  প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিয়ে উদ্বেগ নেই। উদ্বেগ নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। অতীত তা-ই বলে। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে তাঁর ইশতেহারে। তিনি ১০০ বছরের মহাপরিকল্পনা বানাবেন।

চেনা লড়াইয়ের অচেনা প্রতিপক্ষ

আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির তাবিথ আউয়াল আগেও ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। তবে দুজনের প্রতিপক্ষ ছিলেন আলাদা। এবার চেনা লড়াইয়ে অচেনা প্রতিপক্ষ সামনে রেখে নতুন প্রচারকৌশল নিচ্ছেন দুজনেই। আতিকুল তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও উত্তর সিটির বর্তমান মেয়র। আর দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ।

মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন আতিকুল। তাঁর নির্বাচনী কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে তিনি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাচনী অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। প্রচারকাজে প্রতিদিনই উত্তরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে মিছিল, গণসংযোগ ও সভার কাজ চলবে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেদিন থেকে দায়িত্ব পেয়েছি, সেদিন থেকে এক দিনও সময় নষ্ট করিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৯ মাসে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি।’ সুন্দর ঢাকা গড়তে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনিসুল হকের বিপক্ষে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল। নির্বাচনের দিন মাঝপথে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেরও সহসভাপতি।

গতকাল সারা দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তাবিথ আউয়াল। দুপুরে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসে নির্বাচন নিয়ে  নির্বাচন থেকে যাতে বিএনপি সরে যায়, তার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন নানা তৎপরতা চালাবে। কিন্তু এবার নির্বাচন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত থাকব। প্রচার, ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা, গণনার পর অনিয়ম হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় থাকতে চান তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচন পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

আস্থা না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিন দাবি তাবিথের। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে দিতে হবে। দেশবাসীর আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত ইভিএম ব্যবহার না করা। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সব কেন্দ্রে প্রবেশের ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া।

আগামী ১০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা। এর আগেই তাঁরা সব প্রস্তুতি শেষ করতে এগোচ্ছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451