সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

লুকিয়ে হবে না এনআরসি, বললেন অমিত শাহ

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে প্রকাশ্যে এবং আপাতত কিছুটা সুর বদলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুরেই কথা বললেন অমিত শাহ।

তবে দেশে ডিটেনশন কেন্দ্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যত খণ্ডনই করলেন তিনি।

এনআরসি নিয়ে মিথ্যা প্রচার হচ্ছে দাবি করে রবিবার রামলীলা ময়দানে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘২০১৪ সালে আমার সরকার আসার পরে কোথাও এনআরসি নিয়ে আলোচনা হয়নি।’’ অথচ সংসদের ভিতরে-বাইরে অমিত শাহ একাধিক বার বলেছেন, ‘‘গোটা দেশে এনআরসি চালু হবে। প্রথমে নাগরিকত্ব বিল, পরে এনআরসি।’’ মোদীর রবিবারের বক্তব্যের পরে স্বাভাবিক ভাবেই অমিতের সেই সব মন্তব্য তুলে ধরে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, কে সত্যি বলছেন? এই পরিস্থিতিতে দু’দিন চুপ থাকার পরে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বললেন, ‘‘দেশজুড়ে এনআরসি নিয়ে বিতর্কের কোনও দরকার নেই, কারণ এখনই এটা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন যে, এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় বা সংসদে এখনও কথা হয়নি।’’ সেই সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, ‘‘আর যখন হবে, তখন কি আর লুকিয়ে হবে?’’

বহুরূপে সম্মুখে…
‘গোটা দেশে এনআরসি
চালু হবে। প্রথমে নাগরিকত্ব বিল, পরে এনআরসি’
অমিত শাহ,
সংসদে একাধিক বার

‘২০১৪ সালে আমার সরকার আসার পরে এনআরসি নিয়ে আলোচনা হয়নি’
নরেন্দ্র মোদী, রবিবার

‘এনআরসি কোথাও এখন বিচার্যই নয়। প্রধানমন্ত্রী ঠিক বলেছেন। মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়নি, সংসদে কেউ বলেননি। আর যখন হবে, তখন থোড়াই লুকিয়ে হবে?’
অমিত শাহ, মঙ্গলবার

‘ভারতে ডিটেনশন
সেন্টারই নেই’
নরেন্দ্র মোদী, রবিবার

‘দেশে একটিই ডিটেনশন সেন্টার আছে, অসমে। যদিও নিশ্চিত নই। কিন্তু এটি অনেক বছর ধরে আছে।
নরেন্দ্র মোদী সরকার
আসার পরে হয়নি’
অমিত শাহ, মঙ্গলবার

ডিটেনশন কেন্দ্র নিয়ে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কার্যত খণ্ডন করেছেন তাঁর সেনাপতি অমিত। রামলীলায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ভারতে কোনও ডিটেনশন কেন্দ্রই নেই।’’ খোদ প্রধানমন্ত্রীর ওই দাবির পরেই তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিজেপি শাসিত অসমে এনআরসি-ছুটদের কথা ফের সামনে আসে। কখনও অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত ছেলের কথা শুনিয়েছেন মা, কখনও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন ভুক্তভোগী। তা ছাড়া কর্নাটকেও নতুন সেন্টার তৈরির খবর বা অন্যত্র ডিটেনশন কেন্দ্র তৈরি নিয়ে অমিত শাহের মন্ত্রকের নির্দেশিকাও সামনে আসে।

ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর)

• দেশের বাসিন্দাদের পরিচিতি বহনকারী সার্বিক তথ্যভাণ্ডার।
• কোনও এলাকায় ৬ মাস ধরে বসবাসকারী ও পরের ৬ মাস সেখানেই থাকতে পারেন, এমন বাসিন্দার তথ্য নেওয়া হয়। বিদেশিরাও (কাজ ও পড়তে আসা)তালিকায় থাকবেন।
• অসম বাদে বাকি দেশে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।
• স্বেচ্ছায় যে তথ্য জানানো হবে তা সরকার মেনে নেবে। কোনও প্রামাণ্য নথি লাগবে না।

• তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২০২০ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর।
• খরচ-৩৯৪১ কোটি
• ২০১১ সালে জনগণনার সময়ে প্রথম বার এনপিআর তৈরি হয়। ২০১৫-য় পরিমার্জন

এনআরসি-র সঙ্গে এনপিআর-এর ফারাক কী?

কেন্দ্রের বক্তব্য, এনপিআর-এ কে এ দেশের নাগরিক, কে নন, তা যাচাই করা হচ্ছে না। এনআরসি হলে নাগরিকত্ব যাচাই হবে।

এনপিআর-এ আগে কী কী তথ্য চাওয়া হতে পারে?
• নাম • বাড়ির বা পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক • বাবার নাম • মায়ের নাম • লিঙ্গ
• বিবাহিত কি না • বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর নাম  • জন্মস্থান
• জন্মতারিখ  • ঘোষিত নাগরিকত্ব  • বর্তমান ঠিকানা  • বসবাস কত দিন ধরে  • স্থায়ী ঠিকানা
• জীবিকা  • শিক্ষাগত যোগ্যতা

অতিরিক্ত যে সব তথ্য চাওয়া হতে পারে
• বাবা-মায়ের জন্মস্থান
• বাবা-মায়ের জন্মতারিখ
• পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার সংখ্যা (ঐচ্ছিক)
• মোবাইল নম্বর
• বাড়ির আয়তন কত?
• গবাদি পশু আছে কি না?

• প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, এনপিআর-এ বায়োমেট্রিক প্রমাণ দিতে হবে না। আধারও লাগবে না। যদিও অমিত শাহের দাবি, আধার থাকলে, কেন দেবেন না।

এই অবস্থায় ডিটেনশন কেন্দ্রের বাস্তব লুকোননি অমিত। বরং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেই বলেছেন, ‘‘আমার তথ্য অনুযায়ী, দেশে একটিই ডিটেনশন কেন্দ্র আছে, অসমে।’’ সেই সঙ্গেই তিনি জানান, ওই কেন্দ্রটি মোদী ক্ষমতায় আসার আগেই তৈরি হয়েছিল।

AB

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451