রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পাথরঘাটা বিদ্যুৎহীন ৩৮ ঘণ্টা, পানি বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর আঘাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ৩৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ নেই। এতে পাথরঘাটা পৌর এলাকায় দুদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবাসহ মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে চিকিৎসাসেবাও বন্ধ।

জানতে চাইলে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাথরঘাটা অভিযোগকেন্দ্রের জুনিয়র প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এ তার পুনঃসংযোগ দিতে প্রায় সাত দিন সময় লাগবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে আজ সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পাথরঘাটা পৌর এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পাথরঘাটা উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর, কালমেঘা, কাকচিড়া, চরদুয়ানী, নাচনাপাড়া, কাঁঠালতলী ও রায়হানপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৮ ঘণ্টা ধরে এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে মুঠোফোন চার্জ দিতে না পারায় দুর্যোগে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। ইজিবাইকের চালকেরা তাঁদের রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। এতে রিকশা চলাচলও খুবই কম।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গ্রামের প্রতিটি বাড়িরই একাধিক গাছ ভেঙে গেছে বা উপড়ে পড়েছে। এতে সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ায় তার ছিঁড়ে গিয়ে এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পাথরঘাটা পৌর পানি সরবরাহ শাখার ব্যবস্থাপক সোহেল আহম্মেদ বলেন, পাথরঘাটা পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে পানির গ্রাহক ১ হাজার ৯০০। বিদ্যুতের অভাবে দুদিন ধরে তাঁদের পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে ওই গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে দূরের ও প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না অনেকেই। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরান বিভিন্ন জনাকীর্ণ কারাগারের ৫৪ হাজারের বেশি বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর ওই বন্দীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ব্যাপক হারে জামিন দেওয়া হলেও পাঁচ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ‘নিরাপত্তা বন্দীদের’ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। আর এই গণজামিনের ঘটনায় ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দাতব্যকর্মী নাজানিন জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ খুব শিগগির মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। খবরে টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার পোস্ট তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ আজ-কালের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। নাজানিনের মুক্তি চেয়ে ‘হ্যাশট্যাগ ফ্রি নাজানিন’ লিখে দ্বিতীয় পোস্টে টিউলিপ বলেন, ‘যদি এই সাময়িক মুক্তির ঘটনা ঘটে, তবে ব্রিটিশ সরকারের এটিকে (মুক্তি) স্থায়ী করার দায়িত্ব থেকে যায়। তাঁকে যেন দর-কষাকষির বস্তু হতে না দেওয়া হয়। আমি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে নাজানিন তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য এখনো তাঁকে পরীক্ষা করা হয়নি।’ ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে এদিকে নাজানিনের স্বামী গত শনিবার দাবি করেছেন, তেহরানের ইভিন কারাগারে তাঁর স্ত্রীর কোভিড-১৯ সংস্পর্শ ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি বলেছেন, নাজানিনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন। ২০১৬ সালে নাজানিনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ বছরের জেল দেয় ইরান। তবে নাজানিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ সরকারও নাজানিনকে নির্দোষ দাবি করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীদের ইভিন কারাগারে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের কাছে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯–এ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৩ হাজার ১১০ জন। এর বেশির ভাগই চীনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়ায়। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আফগানিস্তান, কানাডা, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ৭১ বছর বয়সী মীর মোহাম্মদি মারা গেছেন। দেশটির ২৯০ জন এমপির মধ্যে ২৩ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। সবশেষ আক্রান্ত হয়েছেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ।

© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451