বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্সঃ

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বত্র কঠোর মনিটরিং করা হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দেশের চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রমজানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ আছে। কোথাও সংকট হওয়ার কথা নয়। এর পরও কেউ সংকট সৃষ্টি করতে চাইলে তার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কী উদ্যোগ নিচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ‘রমজানে যেসব খাদ্য-দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে তা হচ্ছে- চাল, মুসুরের ডাল, তেল, চিনি ও ছোলা। এসব খাদ্য-দ্রব্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এসবের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এ সময় টিসিবির খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি রামজানে আরো জোরদার করা হবে বলে জানান টিপু মুনশি।

সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পণ্য পরিবহনের সময় চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের চিঠি দেওয়া হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে আগেই অভিযোগ করেছেন, তাদের পণ্যবাহী পরিবহনে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। বিষয়টি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সড়কে পণ্য পরিবহনের সময় চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের পদক্ষেপ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হবে।’

বৈঠকে চালকলের মালিকরা মন্ত্রীকে জানান, দেশে চালের প্রচুর উৎপাদন ও মজুদ আছে। তাঁরা বিদেশে চাল রপ্তানি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চালকলের মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা আমাকে বলেছেন, আমরা যদি এই মুহূর্তে চাল রপ্তানি না করি, তবে চালের মূল্য আরো পড়ে যাবে। এতে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব। যদি বেশি চাল থেকে থাকে, তবে কৃষকদের স্বার্থে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরান বিভিন্ন জনাকীর্ণ কারাগারের ৫৪ হাজারের বেশি বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর ওই বন্দীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ব্যাপক হারে জামিন দেওয়া হলেও পাঁচ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ‘নিরাপত্তা বন্দীদের’ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। আর এই গণজামিনের ঘটনায় ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দাতব্যকর্মী নাজানিন জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ খুব শিগগির মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। খবরে টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার পোস্ট তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ আজ-কালের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। নাজানিনের মুক্তি চেয়ে ‘হ্যাশট্যাগ ফ্রি নাজানিন’ লিখে দ্বিতীয় পোস্টে টিউলিপ বলেন, ‘যদি এই সাময়িক মুক্তির ঘটনা ঘটে, তবে ব্রিটিশ সরকারের এটিকে (মুক্তি) স্থায়ী করার দায়িত্ব থেকে যায়। তাঁকে যেন দর-কষাকষির বস্তু হতে না দেওয়া হয়। আমি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে নাজানিন তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য এখনো তাঁকে পরীক্ষা করা হয়নি।’ ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে এদিকে নাজানিনের স্বামী গত শনিবার দাবি করেছেন, তেহরানের ইভিন কারাগারে তাঁর স্ত্রীর কোভিড-১৯ সংস্পর্শ ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি বলেছেন, নাজানিনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন। ২০১৬ সালে নাজানিনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ বছরের জেল দেয় ইরান। তবে নাজানিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ সরকারও নাজানিনকে নির্দোষ দাবি করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীদের ইভিন কারাগারে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের কাছে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯–এ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৩ হাজার ১১০ জন। এর বেশির ভাগই চীনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়ায়। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আফগানিস্তান, কানাডা, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ৭১ বছর বয়সী মীর মোহাম্মদি মারা গেছেন। দেশটির ২৯০ জন এমপির মধ্যে ২৩ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। সবশেষ আক্রান্ত হয়েছেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ।

© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451