সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী লুঙ্গি উৎসব

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী লুঙ্গি উৎসব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ বুঝি এক নতুন ঘটনা। নতুন উৎসবও। বাসা-বাড়ি কিংবা এলাকার মধ্যে অনেকে লুঙ্গি পরেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এলাকার বাইরে কোনও কাজে গেলে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও অফিসে কাউকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তেমন ঘটনা ঘটেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আয়োজন করেছিলেন ব্যতিক্রমী লুঙ্গি উৎসবের। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লুঙ্গি মহফেল ২০১৯’।লুঙ্গি পরে সেখানে অংশ নেন তারা। গিয়েছেন ক্লাসে, ঘুরে বেড়িয়েছেন ক্যাম্পাসে, দিয়েছেন আড্ডা। এই মহফেল উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলে প্রচারণা চালান আয়োজকরা।এ বিষয়ে ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র নেহাল মুহাম্মাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার জায়গা। কিন্তু আজকাল সব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ হয় না। অন্যের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা এসব এখন অনেক কমে গেছে। লুঙ্গি আমাদের দেশীয় পোশাক হলেও অনেকে এটাকে ‘ক্ষ্যাত’ বলে আখ্যা দেন। আমরা মূলত সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।নেহাল আরও বলেন, পোশাক যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে লুঙ্গি পরে ক্লাস করার কথা ভাবাও যায় না। অনেকেই বিষয়টি অন্যভাবে দেখেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু কিছু জায়গায় টিশার্ট পরে গেলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু আমরা চাই এই ধারার অবসান ঘটুক।লুঙ্গি উৎসবে একশর বেশি শিক্ষার্থী যোগ দেন জানিয়ে নেহাল বলেন, ‘সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছেন। মেয়েদের জন্য কোনও ড্রেসকোড রাখা হয়নি। আমাদের বান্ধবী ও নারী সহপাঠীরাও অংশ নেন মহফিলে।’শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার পর শিক্ষকদের অনেকে ছাত্রদের লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখে বিস্মিত হলেও বিষয়টি জেনে কিছু বলেননি বলে জানান নেহাল।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরান বিভিন্ন জনাকীর্ণ কারাগারের ৫৪ হাজারের বেশি বন্দীকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে। বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর ওই বন্দীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ব্যাপক হারে জামিন দেওয়া হলেও পাঁচ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ‘নিরাপত্তা বন্দীদের’ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। আর এই গণজামিনের ঘটনায় ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দাতব্যকর্মী নাজানিন জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ খুব শিগগির মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। খবরে টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার পোস্ট তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, জাঘারি-র‌্যাটক্লিফ আজ-কালের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। নাজানিনের মুক্তি চেয়ে ‘হ্যাশট্যাগ ফ্রি নাজানিন’ লিখে দ্বিতীয় পোস্টে টিউলিপ বলেন, ‘যদি এই সাময়িক মুক্তির ঘটনা ঘটে, তবে ব্রিটিশ সরকারের এটিকে (মুক্তি) স্থায়ী করার দায়িত্ব থেকে যায়। তাঁকে যেন দর-কষাকষির বস্তু হতে না দেওয়া হয়। আমি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে নাজানিন তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য এখনো তাঁকে পরীক্ষা করা হয়নি।’ ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানিনের স্থায়ী মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: টিউলিপ সিদ্দিকের টুইটার থেকে এদিকে নাজানিনের স্বামী গত শনিবার দাবি করেছেন, তেহরানের ইভিন কারাগারে তাঁর স্ত্রীর কোভিড-১৯ সংস্পর্শ ঘটেছে। তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিচার বিভাগবিষয়ক মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি বলেছেন, নাজানিনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন। ২০১৬ সালে নাজানিনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ বছরের জেল দেয় ইরান। তবে নাজানিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ সরকারও নাজানিনকে নির্দোষ দাবি করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীদের ইভিন কারাগারে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ইরানের কাছে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯–এ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৩ হাজার ১১০ জন। এর বেশির ভাগই চীনের। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়ায়। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গতকাল মঙ্গলবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আফগানিস্তান, কানাডা, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ৭১ বছর বয়সী মীর মোহাম্মদি মারা গেছেন। দেশটির ২৯০ জন এমপির মধ্যে ২৩ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। সবশেষ আক্রান্ত হয়েছেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ।

© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451