বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:২০ অপরাহ্ন

ইসি তথ্য নিতে চায় বয়স ৬ হলেই !

বাংলার প্রতিদিন, অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

‘৬+ নাগরিক নিবন্ধন কর্মসূচি’ গ্রহণের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন এ কর্মসূচির অনুমোদন দিলে ছয় বছর থেকে সব বয়সী নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহ শেষে সবাইকে দেওয়া হবে জাতীয় পরিচয়পত্র।

ছয় বছর থেকে যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে ১৮ বছর বয়স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা ভোটার হয়ে যাবেন। তথ্য সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রায় ৮৫ শতাংশ নাগরিকের তথ্য থাকবে ইসির কাছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দ্রুতই একটি খসড়া কমিশন সভায় তোলা হবে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া তেরি করেছে বলে জানা গেছে।

ইসি ও এনআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে দেশের ৬৪ জেলায় স্কুল-কলেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন করে তিন কোটিরও বেশি নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বছরজুড়েই এই কার্যক্রম চালাবে অনুবিভাগ। এটি সফল হলে দেশের সব নাগরিকের তথ্য একই ভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকবে। তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে সবাই একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি নম্বর পাবে।

সূত্র আরো জানায়, কমিশন এরই মধ্যে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ চায়, চলতি বছর থেকে যাদের বয়স ছয় বছর হবে তাদের থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করার।  সেজন্য তারা সব প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগুচ্ছে। দ্রুতই বিষয়টি কমিশন সভায় তুলবে তারা। সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে কাজ শুরু করবে। ৬-১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সীদেরও তথ্য সংগ্রহ করবে ইসি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ‘৬+ নাগরিক নিবন্ধন কর্মসূচি’ সংক্রান্ত খসড়াতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পাইলট কার্যক্রম নেওয়া হবে। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আছে এমন ১২টি বিদ্যালয় বাছাই করে সেখানেই তাদের নিবন্ধন করা হবে। সেটি সফল হলে ৬৪টি জেলার ৬৪টি থানায় একযোগে নিবন্ধন কার্যক্রম চালানো হবে। একই প্রক্রিয়ায় ওই বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা থানার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ঝরে পড়া শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালানো হবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহের পরও যারা বাদ যাবে তারা সারা বছর উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে তথ্য নিবন্ধন করতে পারবে। নিবন্ধনের সময়ে জন্মসনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পঞ্চম শ্রেণি/এবতেদায়ি সমাপনী সনদ অথবা অষ্টম শ্রেণির সনদ এবং মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা নেওয়া হবে। আর যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় না, তাদের নিবন্ধিত হতে জন্মসনদ ও মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

রোহিঙ্গা শিশুরা যাতে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিক অধ্যুষিত উপজেলাগুলোকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করা যেতে পারে। ওই সব এলাকার জন্য বিশেষ ফরম ও বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ওই কমিটি যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন করবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অনুবিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘৬+ নাগরিক নিবন্ধন কর্মসূচি’-এর তথ্য সংগ্রহে ইসির কাছে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরবে অনুবিভাগ। যেমন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ নেওয়া এবং ঝরে পড়াদের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন করে নিবন্ধন করা। নিবন্ধিত সব নাগরিককে বায়োমেট্রিক (আঙ্গুলের ছাপ) ম্যাচিংসাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া। তিনি আরো বলেন, ছয় বছরের শিশুরা প্রথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে সাধারণত। মূলত তাদের টার্গেট করে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করবে ওই স্কুলের শিক্ষকরা। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘৬+ নাগরিক নিবন্ধন কর্মসূচি’। চলতি বছর থেকে শুরু হলে কাজটি শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় চার বছর। সবাইকে একটি ইউনিক নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা একটি খসড়া তৈরি করেছি। দ্রুতই খসড়াটি ইসির কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। কমিশন ১০ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুবিভাগ চায়, ইসির সিদ্ধান্তের ১০ বছরের স্থানে ৬ বছর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রমটি শুরু হোক। প্রথমে খসড়াটি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে দেখাব। তারপর এটি কমিশন সভায় তুলব।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, যারা ভোটার তাদের তথ্য তো আমাদের কাছে রয়েছে। এবার ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ছয় বছরের বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এন/টি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 banglarprotidin
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451